বসুন্ধরা শপিং মলের একটি সাধারণ মোবাইল দোকানের চা-বয় ছিলেন তিনি। ফাই-ফরমাশ খাটতেন দোকানের মালিক ও ক্রেতাদের। কিন্তু মাত্র পাঁচ বছরের ব্যবধানে ভাগ্যের চাকা ঘুরে গেছে অলৌকিকভাবে। এখন তিনি কোটি টাকার মালিক, যার রয়েছে রাজধানীর অভিজাত শপিং মলগুলোতে বড় বড় আউটলেট। এই ‘রূপকথার’ নায়ক আনিসুর রহমান সোহেল, যিনি বর্তমানে মোবাইল ব্যবসায়ীদের কাছে ‘ভাঙ্গারি সোহেল’ নামেই বেশি পরিচিত।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, আনিসুর রহমান সোহেল বর্তমানে ‘টেক অ্যান্ড টক বিডি’ (Tech & Talk BD)-এর স্বত্ত্বাধিকারী। রাজধানীর বসুন্ধরা শপিং মল এবং যমুনা ফিউচার পার্কে তাঁর দুটি সুসজ্জিত আউটলেট রয়েছে। ৫ বছর আগেও যার নুন আনতে পান্তা ফুরাত, সেই সোহেল এখন কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক। এই দ্রুত উত্থানের নেপথ্যে রয়েছে ভারত, দুবাই ও মালয়েশিয়া থেকে লাগেজ পার্টির মাধ্যমে আনা অবৈধ ও চোরাই ফোনের এক বিশাল কারবার।
লাগেজ সোহেল
সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানান, মিরপুরের ভাঙ্গারি সোহেল থেকে মোবাইল ব্যবসায় এসে হয়ে যান ‘লাগেজ সোহেল’। তিনি অবৈধ মোবাইল ব্যবসায়ীদের সংগঠন হিসেবে পরিচিত ‘এমবিসিবি’-এর আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, মূলত বিদেশ থেকে চোরাই পথে ফোন আনার নেটওয়ার্কটি নিয়ন্ত্রণ করেন। তাঁর আউটলেটগুলোতে যেসব প্রিমিয়াম স্মার্টফোন পাওয়া যায়, তার বড় অংশই ভ্যাট-ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে আনা ‘আন-অফিশিয়াল’ ডিভাইস।
বর্তমানে এনইআইআর (NEIR) বা মোবাইল নিবন্ধন ব্যবস্থার বিরুদ্ধে যে আন্দোলন চলছে, তার অন্যতম নেপথ্য কারিগর এই সোহেল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বসুন্ধরা সিটির এক ব্যবসায়ী জানান, এনইআইআর চালু হলে ‘লাগেজ সোহেলের’ ব্যবসা পুরোপুরি লাটে উঠবে। কারণ, আইএমইআই (IMEI) ডাটাবেজে তাঁর আনা অবৈধ ফোনগুলো ধরা পড়ে যাবে এবং সেগুলো আর সচল করা সম্ভব হবে না। মূলত নিজের এই অবৈধ সাম্রাজ্য রক্ষা করতেই তিনি সাধারণ ব্যবসায়ীদের উসকে দিচ্ছেন এবং সরকারের জননিরাপত্তামূলক প্রকল্পের বিরোধিতা করছেন।সেরা স্মার্টফোন
তথ্য অনুযায়ী, দেশে ৯৬ হাজার কোটি টাকার অবৈধ ফোনের বাজার নিয়ন্ত্রণকারী যে ২২ জনের সিন্ডিকেট রয়েছে, সোহেল তাঁদের অন্যতম প্রধান সহযোগী। সরকারের ভ্যাট-ট্যাক্স কমানোর সিদ্ধান্তকেও তিনি নস্যাৎ করার চেষ্টা করছেন নতুন নতুন অজুহাতে, যাতে এনইআইআর বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া থমকে যায়।
একজন সাধারণ চা-বয় থেকে মাত্র পাঁচ বছরে কীভাবে কোটি কোটি টাকার মালিক হওয়া যায়, তা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন অপরাধ বিশেষজ্ঞরা। আয়কর বিভাগ ও শুল্ক গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তাঁর সম্পদের উৎস এবং লাগেজ ব্যবসার নেটওয়ার্ক নিয়ে তদন্ত শুরু করতে পারে বলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।










