বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমাদের দেয়া আপত্তিগুলোর কোনোটাই বিবেচনায় নেয়া হয়নি। পরে আমাদের আপত্তির মুখে কিছু কিছু বিষয় সংযোজন করা হলেও সেটি সঠিক ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় হয়নি। সেখান থেকেই সমস্যার শুরু। শুক্রবার সন্ধ্যায় সংসদ থেকে ওয়াকআউট করার পর সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
শফিকুর রহমান বলেন, বিল পাস হওয়ার অন্তত একদিন আগে দেয়ার কথা কাগজগুলো। আমরা অধিবেশনে যোগ দেয়ার পর একে একে বিলগুলো আসতে শুরু করলে আমরা দেখি, রিপোর্টের বিভিন্ন অংশ ক, খ, গ ইত্যাদি ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। বিষয়টি আমরা কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে উত্থাপন করি। আমরা বলি, ১৩৩টি অধ্যাদেশ সংসদে উত্থাপিত হয়েছে। এগুলো পর্যালোচনার জন্য যে বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে, তাদের কাজ হচ্ছে সুপারিশসহ সংসদে উপস্থাপন করা—বাদ দেয়া বা সংযোজন করার এখতিয়ার তাদের নেই। কারণ এটি সংসদের সম্পত্তি।
তিনি বলেন, বাস্তবে আমরা দেখেছি, মন্ত্রী ছাড়া এ প্রক্রিয়া কার্যকর হবে না- এমন বক্তব্যও এসেছে। এমনকি আমাদের বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছে যে, আজ আমরা বিরোধী দলে থাকলেও ভবিষ্যতে সরকারি দলে গেলে এ সুবিধা আমরাও নেবো। আমরা স্পষ্টভাবে বলেছি, আমরা এখানে কোনো সুবিধা নিতে আসিনি, আমরা এসেছি জনগণের অধিকার রক্ষার জন্য।
জামায়াত আমির বলেন,। নিয়ম অনুযায়ী অন্তত একদিন আগে এসব ডকুমেন্ট সরবরাহ করার কথা থাকলেও তা করা হয়নি। আমরা অধিবেশনে গিয়ে বসার পর একের পর এক প্রস্তাব আমাদের সামনে আনা হয়েছে। যা আমরা দেখিনি, শুনিনি বা বিবেচনা করার সুযোগ পাইনি সেগুলোর ওপর আমরা কীভাবে সিদ্ধান্ত দেব?
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সরকারি ও বিরোধী দলের সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ কমিটির কিছু বিষয়ে আমরা আস্থা রেখেছিলাম। কিন্তু শেষ মুহূর্তে এসে সেই আস্থাও ভঙ্গ করা হয়েছে। আরও বলা হয়েছে, মন্ত্রী ছাড়া অন্যরা বেসরকারি সদস্য। কিন্তু যদি তাই হয়, তাহলে সংস্কৃতি মন্ত্রী এটি গ্রহণ করলেন কেন? গ্রহণ করার পর তো এটি আর বেসরকারি থাকে না। আমরা বিষয়টি উত্থাপন করলে তিনি বলেন, তিনিও নাকি জানতেন না। সংসদে একজন মন্ত্রী যদি এমন বলেন, তাহলে প্রশ্ন ওঠে এই প্রক্রিয়া কোথা থেকে পরিচালিত হচ্ছে?
তিনি আরও বলেন, আমরা স্পিকার মহোদয়ের কাছে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা চাইলে আমাদের বলা হয়, আপাতত এভাবে পাস হয়ে যাক, ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে আপনারা বিল আনবেন। কিন্তু যারা নিজেদের বিলেই আস্থা রাখতে পারেন না, প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারেন না—তাদের ভবিষ্যতের আশ্বাস আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।
অধ্যাদেশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিধি অনুযায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ সংসদে উত্থাপন করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী ৩০ ক্যালেন্ডার দিনের মধ্যে এগুলোর নিষ্পত্তি হওয়ার কথা। সেদিনই সংসদ থেকে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন সরকারি দলের সদস্য অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। সেখানে সরকারি ও বিরোধী উভয় দলের সদস্যরা ছিলেন। একাধিক বৈঠক ও আলোচনার পর হঠাৎ করেই একটি রিপোর্ট তৈরি হয়ে যায়।
শফিকুর রহমান বলেন, আমরা বিরোধী দলের সদস্যদের জিজ্ঞেস করি রিপোর্ট কি যৌথভাবে চূড়ান্ত করা হয়েছে? তারা জানান, এ ধরনের কোনো চূড়ান্ত বৈঠকই হয়নি। তখনই আমাদের সন্দেহ আরও জোরালো হয়।












